কলকাতা সহ পচিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজন ভিত্তিক বৃত্তি প্রদান করা হয় খোলো আঁখির সহজপাঠ প্রকল্পের মাধ্যমে

খোলো আঁখির সহজপাঠ প্রকল্পে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজন ভিত্তিক বৃত্তি দেওয়া হয়।
আজ তাদের কথা বলব (নাম প্রকাশ না করে ) যারা ছড়িয়ে আছে স্কুল থেকে কলেজ, ডাক্তারি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং, বিশ্ব বিদ্যালয় এমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে। আর্থিক, সামাজিক ও অন্যান্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে এগিয়ে চলেছে নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে :
● মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের MBBS ফাইনাল ইয়ারের একটি ছাত্র জয়নগর-মজিল পুরের বাসিন্দা। ২০১৮ সালে একাদশ শ্রেণীতে যাবার সময় থেকে খোলো আঁখি তার পাশে থেকে হস্টেল সহ ডাক্তারী পড়ার যাবতীয় খরচ বহন করে আসছে।
● বর্ধমানের রসুলপুর গ্রামের জনজাতি সম্প্রদায়ের ছেলেটি Power Engineering নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে 4th year B.Tech. পড়ছে।
● দশম শ্রেণী থেকে খোলো আঁখি সঙ্গে আছে। বর্তমানে BA 1st year.এর ছাত্র। গড়িয়া অঞ্চলে থাকে।
● Institute of Post Graduate Medical Education and Research (IPG,MER) এ MBBS দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। কলকাতার মেয়ে। তার মেধা আর অধ্যাবসায় স্বপ্ন কে সফল করে তুলতে চলেছে।
● দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। একাদশ শ্রেণী থেকে সহজ পাঠ তার সঙ্গে।
●হাওড়া জেলার বাগনানের ছেলে এ বছর H-S. পরীক্ষা দিয়েছে। ইচ্ছে ইঞ্জিনীয়ার হবার।
● ২০২৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে লেক টাউনের ছেলেটি। তার সঙ্গে দিচ্ছে JEE, IITJEE. ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছে নিয়ে।
● বাগনান কলেজে BA পড়ছে। Final year এর ছাত্রী। ছোট বয়সে বাবা মারা যান। ভবিষ্যতে Skill trainning নিয়ে স্ব-নির্ভর হতে চায়।
● ডিরোজিও কলেজের B.Com Final year এর ছাত্রী। ছোট বয়সে পিতৃহারা।
● রামমোহন কলেজে BA পড়ছে ছাত্রীটি,সঙ্গে বয়স্ক দাদু দিদার দায়িত্ব সামলাচ্ছে। দশম শ্রেণী থেকে খোলো আঁখি রয়েছে তার সঙ্গে।
● বিশেষ ভাবে সক্ষম মেয়েটি Sign language এ পড়াশোনা করে। ডায়মন্ডহারবার থেকে প্রতিদিন আসে সল্টলেকের একটি বিশেষ স্কুলে। দশম শ্রেণীতে পড়ে। সুন্দর আঁকার হাত। তিন বছর ধরে খোলো আঁখি সাথে আছে।
●হুগলির চন্দন নগরের মেধাবী ছাত্র ২০২১ সাল থেকে সহজ পাঠের আওতায়। অঙ্কে Honors নিয়ে প্রথম শ্রেণীতে B.Sc. পাশ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে M.Sc. পড়ছে।
● বাগনান বাঙালপুর হিন্দু হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী হাওড়া জেলার আমতায় থাকে।
● West Bengal State University থেকে প্রথম শ্রেণীতে BA পাস করে ইংরাজিতে MA পড়ছে। উত্তর ২৪ পরগনার হৃদয়পুরের মাত্র ১০% দৃষ্টি সম্পন্ন মেয়েটি। সারদা মিশনের অন্তর্গত ‘রসিকভিটা’ থেকে শুধু মাত্র ক্ষীণ দৃষ্টি সম্পন্ন মেয়েদের জন্য নির্দিষ্ট Basic Comp. Communicative English, Mobility trainning নিয়েছে, যেটি তার ব্যবহারিক জীবনে খুব কাজে লাগছে। বড় print করা লেখা, Recorded text আর Magnifying glass তার পড়াশোনার সঙ্গী সাথে আছে খোলো আঁখি বিএ প্রথম বর্ষ থেকে।
●লেক টাউন পাতি পুকুরের ছেলেটি নবম শ্রেণী থেকে পড়াশোনা করেছে সহজ পাঠের সহায়তায়।বর্তমানে মালদহের গণিখান চৌধুরী কলেজ অফ টেকনোলজিতে Food Technology এর তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
● বর্তমানে সোদপুরে Metropolitan Homeopathic Medical College and Hospital-এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীটি আদতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। একাদশ শ্রেণী থেকে খোলো আঁখি আছে তার সঙ্গে।
● দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর অঞ্চলের “St. Mary Educational Trust” school এর নবম শ্রেণীর ছাত্রটি মায়ের লড়াই এরও সাথী।
●পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মানুষ তার বাবার অকাল মৃত্যুর পর কষ্ট করে পড়াশোনা করছিল মেয়েটি। অষ্টম শ্রেণীতে উঠে খোলো আঁখির কথা জানতে পেরে সহায়তার আবেদন করে। আজ সে পৌঁছেছে দ্বাদশ শ্রেণীতে।
● কোচবিহারের সিংহিমারি হাই স্কুলের এই ছাত্রটি ৫০০ এর মধ্যে ৪৫০ নম্বর পেয়ে একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীতে উঠেছে।
● ২০১৯ সালে অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন করে থ্যালাসেমিয়া থেকে মুক্ত হওয়ার পর মেয়েটি আনুষ্ঠানিক ভাবে স্কুলে পড়া শুরু করে পঞ্চম শ্রেণী থেকে l তার অসুস্থতার কারণে অনেক আগে থেকে খোলো আঁখি তার পরিবারের পাশে থেকেছে। এ বছর class IX হোল। বর্তমান বাসস্থান হুগলি জেলা। শিক্ষা ও অঙ্কন সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ বহন করে আসছে খোলো আঁখি।
● পুরুলিয়ার ভূমি পুত্র, সঙ্গীত তার ধ্যান- জ্ঞান। কিন্তু প্রশিক্ষণ নেবার মত আর্থিক সঙ্গতি নেই। বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিক্ষার জন্য নির্দিষ্ট বৃত্তি তাকে দেওয়া হয়। সঙ্গীতকে ভবিষ্যতে জীবিকা হিসেবে নিতে চায়।
যাদের কথা বলা হল এদের প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা আলাদা লড়াইয়ের গল্প। কৃষিজীবি, দিন মজুর, বিড়ি শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সেলাই এর কারিগর, ফেরি ওয়ালা, পুরোহিত, সামান্য চাকুরীজীবি, গৃহ সহায়িকা, সেবিকা, মিস্ত্রি ইত্যাদি সকলের ছেলে মেয়েরা আছে সহজ পাঠের ছাতার তলায়। উদ্দেশ্য একটাই, বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে সৎ, সাহসী মানুষ হবার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া।
শুধুমাত্র আর্থিক নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও শারীরিক সমস্যাও মানুষের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।অনেক মা একাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন সংসারের দায়িত্ব। তার মধ্যে রয়েছেন অ্যসিড আক্রান্ত মায়েরাও। কাউকে সন্তানের থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে জীবিকা নির্বাহ করে সন্তানকে মানুষ করার জন্য। কারো বাবা অকালে প্রয়াত, কেউ বা ছেড়ে গেছেন সংসার, সন্তান। কারো বাবা সংশোধনাগারে।
বাবা-মা থেকেও তাঁদের স্নেহচ্ছায়া থেকে বঞ্চিত, এমন ছেলে মেয়েগুলিকে আগলে রাখার চেষ্টা করি আমরা। যাদের এ ধরণের কোন সমস্যা নেই, পরিবার যাদের পাশে আছে, তাদের কাছে অনেক সময়ই আর্থিক প্রতিকূলতা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
সব বাধা পেরিয়ে এদের এগিয়ে যাবার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয় খোলো আঁখি। “‘সহজ পাঠ’ ওদের স্বপ্ন দেখায়। ধাপে ধাপে উত্তরণ ঘটে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে। আমরাও অপেক্ষায় থাকি সেই বিশেষ মুহুর্তের!
আশা করি আপনারাও সবসময়ে আমাদের পাশে থেকে আমাদের চলার পথটিকে আরো মসৃণ করে তুলবেন। ধন্যবাদ ।
Verified by MonsterInsights